ঝিনুক ডানা আর ঝুলবারান্দা
বালির ভেতর মুখ লুকানো ছোট্ট ঝিনুক পেলেই খেলার এক এক বিকেলে তা নিজের ভেবে কিরকম লাফিয়ে উঠতাম আনন্দে। তখন থেকেই কি অধিকারবোধ জন্মে যায়! অথচ যা কিছু এভাবে নিজের ভেবে কাছে রাখতাম সেসবই আমার কাছ থেকে হারিয়ে যেত। ডাকটিকেট জমানোর যে খাতাটা আমার ভীষণ প্রিয় ছিলো, তা হারিয়ে গেছিলো গ্রাম থেকে আমাদের বাড়িতে আসা এক কিশোরের হাতে পড়ে। আর ফুলতোলা রুমালটা হারিয়েছিলাম সমুদ্দরে।
আপাতদৃষ্টিতে ছোটো অথচ এ দুই গভীর বিষাদকে সঙ্গী করে যখন আরেকটু বড় হলাম ততদিনে হারিয়ে ফেলেছি খুব প্রিয় এক রূপকথার বই আর লতিফ ভাইয়ের হাতের মোটা কাগজে বানানো পরির দুটো ডানা।
তখন থেকে একটু একটু করে কঠিন হতে শুরু করেছে দিন, কাছ ঘেঁষে আসছে তর্জনী শাসন, চোখের গরম আমি মেয়ে বলে। আমার ভয় পাওয়া চেহারা নিয়ে নিজের ভেতর নিজেকে গুটিয়ে নিতে নিতে একদিন সত্যি মেয়ে হয়ে উঠলাম! সুযোগ পেলেই শাসাতে ভালবাসত যারা, তাদের কাছে হারতে শুরু করলাম। অমনি আমার পেয়েও হারিয়ে ফেলবার লিস্টিটাও বাড়তে শুরু করল।
সেবারকার হারানোর শুরুটা হলো ঝুলবারান্দা থেকে...